সুকুলেন্ট এর পরিচর্যা।

এই গাছগুলো দেখে আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছেন? মনে হচ্ছে এক্ষুনি বাড়িতে নিয়ে আসি ? কি সুন্দর দেখতে !
তবে আগে সবটা ভালো করে পড়ুন , তারপর কেনার কথা ভাববেন।
দেখতে খুব খুব সুন্দর লাগে । খুব কম যত্নের গাছ হলেও এদের বাঁচিয়ে রাখাটা কিন্তু খুব সহজ না! অনেককেই কিনে নিয়ে আসেন শখ করে ,তারপর মেরে ফেলেন। বিশেষ করে গরম কালের সময়।
খুব খুব কম যত্নের গাছ হলেও এদের যত্ন খুব খুব স্পেসিফিক। তাই ডিটেলস এ পড়ুন।
এদের ন্যাচারাল হ্যবিট্যাট এর কথাটা ভাবুন। শুষ্ক , শীতপ্রধান মরু অঞ্চলের গাছ এরা । এরা যেখানে জন্মায় সেখানে বাতাসে আর্দ্রতা খুব খুব কম। বৃষ্টি হয় বছরে এক দুবার , তাও ধরুন ওই পাঁচ দশ মিনিটের জন্য।
এদের পাতা গুলো হাত দিলেই বুঝবেন কতোটা মোটা , আসলে এরা পাতার মধ্যে জল ধরে রাখে । জল ছাড়া এরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।
তাই এদের জল কম দিতে হবে। সপ্তাহে একবার বা দশদিন অন্তর একবার জল দিলেই যথেষ্ট । জল দেওয়ারও নিয়ম আছে।
এদের কখনো ওপর থেকে জল দেবেন না। পাতাতে জল লাগলেই আপনার গাছ শেষ ! একটা থালাতে জল নিয়ে তার ওপর পটটা ঠিক দশমিনিট বসিয়ে রাখবে। ওই সময়ের মধ্যে মিডিয়া যেটুকু জল শুষে নেবে তার থেকেই এদের জলের চাহিদা মিটে যাবে। এদের শিকড় সেইভাবেই তৈরি যাতে খুব কম সময়ের মধ্যে জল সংগ্রহ করে নিতে পারে।
কখনোই পাতার ওপরে জল দেবেন না। একশো জনের মধ্যে নব্বই জন এই করেই শুকুলেন্ট মেরে ফেলেন!
খুব কাছ থেকে এদের পাতা দেখলে খেয়াল করবেন এদের পাতার ওপরে একটা পাউডার এর কোট থাকে । এটা সরে গেলে এদের পাতার ওপর জল পড়লেই পাতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই হাত দিয়ে এদের পাতা বারবার ধরবেন না।
এই পাউডার কোটিং টা থাকলে পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারে না। এটা এদের ন্যাচারাল ডিফেন্স।
শীতকালে রোদ খেলে এদের সমস্যা নেই , কিন্তু আমাদের এখানে গরম কালে এদের সারাদিন রোদ খাওয়ানো যাবে না। তাই গরম কালে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে খুব ভালো আলো পাবে কিন্তু সরাসরি রোদ পাবে না।
কিন্তু সবার আগে যেটা দরকার ঠিকঠাক মিডিয়াতে বসানো। মাটিতেও বেঁচে থাকে , কিন্তু খুব ভালো থাকে না । সিন্ডার , বালি , পাতাসার ৫০:২০:৩০ করে মিডিয়া বানালে এই গাছ খুব ভালো থাকে ।
জলনিকাশি ব্যবস্থা খুব খুব ভালো থাকা দরকার। এদের শিকড়ে জল জমলেই চার পাঁচদিনের মধ্যে গাছ পটল তুলবে। আর এই গাছ একবার খারাপ হতে শুরু করলে সেটা থেকে রিকোভার করাটা খুব খুব ধৈর্যের ব্যাপার।
এদের সার এর দরকার খুব কম । পাতাসার দিলে এদের অন্য কোনো সার দিতে লাগে না।
বৃষ্টির জল খুব একটা ভালবাসে না । তাই বর্ষাকালে খেয়াল রাখবেন যেন বৃষ্টির ঝাট না লাগে ।
মোদ্দা কথা ঠিকঠাক জানলে খুবই কম যত্নের গাছ। আর না জানলে ঝামেলার গাছ ।
শুরু করতে চাইলে হোয়ার্থিয়া গোত্রের সুকুলেন্ট গুলো নিয়ে শুরু করতে পারেন। এগুলো অনেকটাই হার্ডি হয় । একটু জল কম বেশি হলেও দুম করে মরে যায় না।
আবহাওয়ায় দ্রুত পরিবর্তন হলে এই গাছ মরে যায় , যে কারণে অনেকে কালিম্পং থেকে সস্তায় এই গাছ নিয়ে আসেন , কিন্তু গাছ মরে যায়। এই গাছ কিনতে হলে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতে অন্তত এক মাস আছে , এই ওয়েদার সহ্য করে নিয়েছে , এরকম গাছ কিনবেন। নাহলে এই গাছ আপনাকে ভোগাবে।
সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এগুলো সেল শুরু করবো। আমাদের ওয়েদারে অন্তত এক বছরের বেশি আছে গাছগুলো। বরাবরের মতো গাছের সাথে লাইফটাইম গাইডেন্স ফ্রি থাকবে । গাছের ট্রানজিট ড্যামেজ হলে হয় ফুল রিপ্লেসমেন্ট নাহলে ফুল রিফান্ড ।
গাছপালা নিয়ে ভালো থাকুন , সুস্থ থাকুন
© গাছপাকা।

গাছ নিয়ে এইরকম মূল্যবান টিপস সরাসরি আপনার হোয়াটস্যাপ একাউন্টে পেতে আমাদের "গাছের পাঠশালায়" ভর্তি হতে পারেন। এই পাঠশালায় রোজ গাছ নিয়ে ছোটো ছোটো টিপস শেয়ার করা হয়। খুব সহজে ,কম যত্নে আর কম খরচে গাছ করা সম্ভব ! ভালো গাছ করাটা কোনো রকেট সাইন্স না , কিন্তু সঠিক যত্নটা জানা দরকার আর চর্চায় থাকাটা দরকার।

আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রুপ “গাছপাকার গাছের পাঠশালা” ।রোজ একটু একটু করে গাছ করা শিখতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

আমাদের ফেসবুক পেজ “গাছপাকা” । গাছ নিয়ে বিস্তারিত জানতে এই পেজটি ফলো করতে পারেন।

আমাদের ফেসবুক গ্রুপ “গাছের সমস্যার সমাধান ” । আপনার গাছের সমস্যায় পরামর্শ চাইতে এই গ্রুপে পোস্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
× Whatsapp